দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জুলাই গণহত্যার দৃশ্যমান বিচার ছাড়া দেশে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, বিচারের দাবিতে রাজপথে আন্দোলনের পরও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। একই সঙ্গে উপার্জনক্ষম স্বজন হারিয়ে অনেক শহীদ পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে, এসব পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
শনিবার (৪ জুলাই) আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যরা বিচার ও সহায়তার এসব দাবি জানান।
সম্মেলনে আগত শতাধিক জুলাই যোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা সরকার প্রধানের সামনে নিজেদের যন্ত্রণা, মনের ভাব তুলে ধরেন। এ সময় সন্তান-স্বজন হারানো এই পরিবারগুলোর চোখের পানি আর দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে ওঠে পুরো গ্যালারি।
এ সময় শহীদ মিরাজ হোসেনের বাবা আব্দুল রব মিয়া কান্না জড়িত কণ্ঠে আর্তনাদ করে বলেন, জুলাই এলেই চোখের পানি বাঁধ ভাঙে। আগস্ট মাসের ৫ তারিখ আমার ছেলের বুকটা গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পুলিশ। আমি এক হতভাগা বাবা, এই অন্যায়ের বিচার চাই, প্রতিটি জুলাই যোদ্ধা হত্যার বিচার চাই।
চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেন, আমার ছেলে হারিয়ে গেছে, আর কোনো বাবা মায়ের কোল যেন খালি না হয়। এখন সরকারের কাছে দাবি, জুলাই যোদ্ধা যারা হাত পা হারিয়েছে তাদের সহায়তা করুন।
আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেন কথা বলতে এসে কান্নায় তার গলা ভারী হয়ে আসে। তিনি বলেন, আমার ভাই ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে জীবন দিয়েছে, তার অনুপ্রেরণায় অনেক ভাই জীবন দিয়েছে, পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। অনেক শহীদ পরিবার একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সরকারের কাছে দাবি, তাদের সহায়তা করুন। আমার ভাইয়ের হত্যার দ্রুত বিচার করুন।
শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ জোহরা বলেন, আমার বড় ছেলে জাহিদ মারা যাওয়ার পরে আমার ছোট ছেলের ক্যান্সার ধরা পড়ে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডন থেকে আমাদের খোঁজ নিয়েছেন, সহায়তা করেছেন। এখন সরকারের কাছে একটাই দাবি, সব জুলাই যোদ্ধাদের হত্যার বিচার চাই।
দুই পা হারানো জুলাই যোদ্ধা শাহীন মালু বলেন, গত ১৭ বছর জিয়া পরিবার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহীদ পরিবার যদি বিচার চান তবে তারেক রহমানকে সহায়তা করুন। এই দেশ তার কাছেই নিরাপদ। আজকে বুকটা ভরে যায়, দুটা পা হারিয়েছি দুঃখ নেই, তবে জুলাই যোদ্ধাদের হত্যার বিচার যেন দেখতে পারি।
শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতেও স্মৃতি স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। উপস্থিত ছিলেন সরকারের মন্ত্রী, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনার, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পেশাজীবী নেতারা।
কেএম